খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ শেষ হতেই ফের অভিযান, বসিরহাটের একাধিক রেস্তোরাঁয় হানা আধিকারিকদের

খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ শেষ হতেই ফের অভিযান, বসিরহাটের একাধিক রেস্তোরাঁয় হানা আধিকারিকদের
বসিরহাট: খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ পালনের পর ফের নতুন করে অভিযান শুরু করল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। বসিরহাট মহকুমার বিভিন্ন এলাকা ও একাধিক পর্যটনকেন্দ্রে থাকা রেস্তোরাঁগুলিতে অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। অভিযানের সময় বেশ কিছু রেস্তোরাঁয় খাদ্যের গুণগত মান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একাধিক সমস্যা নজরে আসে বলে জানা যায়।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে থাকা একাধিক রেস্তোরাঁয় আচমকা পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনের সময় কোথাও কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ বা এক্সপায়ারি খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। শুধু তাই নয়, কয়েকটি রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের বিষয়টিও আধিকারিকদের নজরে আসে।
অভিযানের সময় রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীদের একাধিক বিষয়ে সতর্ক করেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী সঠিকভাবে সংরক্ষণ, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাদ্য ব্যবহার না করা এবং রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি রেস্তোরাঁয় কর্মরত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাবার তৈরি ও পরিবেশনের সময় কর্মীদের মাস্ক ব্যবহার এবং মাথায় টুপি পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনওভাবেই খাবারের মধ্যে জীবাণু বা অন্য কোনও দূষিত উপাদান না মেশে, সেই বিষয়েও সতর্ক করা হয় রেস্তোরাঁ মালিকদের।
অন্যদিকে, খোলা জায়গায় বা রাস্তার ধারে যেসব রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকান পরিচালিত হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। দোকানের সামনে প্রয়োজনীয় ফুড লাইসেন্স ঝুলিয়ে রাখার পাশাপাশি খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ যাতে কোনওরকম স্বাস্থ্যঝুঁকি ছাড়াই রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। তাই খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি—প্রতিটি বিষয়েই রেস্তোরাঁ মালিকদের সতর্ক থাকতে হবে।
খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ শেষ হলেও এই ধরনের অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে দপ্তর। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানগুলিতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে বলেও জানা গিয়েছে।
