বঙ্গ বিজেপিতে বড় রদবদল! অঞ্জনা বসু মহিলা মোর্চায়, অমিত সামন্ত যুব মোর্চায়—বদল ৭ জেলার সভাপতি

রাতদিন ওয়েব ডেস্ক: সর্বভারতীয় সভাপতির সফরের আগেই বঙ্গ বিজেপিতে বড় রদবদল, বদল মহিলা-যুব মোর্চার নেতৃত্ব। বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতির পশ্চিমবঙ্গ সফরের আগেই রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক স্তরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। মহিলা মোর্চা ও যুব মোর্চার শীর্ষপদে নতুন মুখ আনার পাশাপাশি সাতটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতিও পরিবর্তন করা হয়েছে।
রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ধাপে ধাপে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন করছে বিজেপি। রাজ্য পদাধিকারী থেকে শুরু করে কার্যকারিণী, মিডিয়া, সমাজমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের পর এবার শাখা সংগঠন ও জেলা নেতৃত্বেও রদবদল করা হল।
মহিলা মোর্চায় নতুন দায়িত্ব অঞ্জনা বসুর। মহিলা মোর্চার রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব এবার দেওয়া হয়েছে অঞ্জনা বসুকে। টেলিভিশন জগতের পরিচিত মুখ অঞ্জনা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হওয়ার জল্পনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির সাংগঠনিক পরিসরে তাঁর সক্রিয়তা দেখা যায়।
এবার ফাল্গুনী পাত্রের জায়গায় মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে আনা হল অঞ্জনাকে। অন্যদিকে ফাল্গুনী পাত্রকে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
যুব মোর্চাতেও বদল, বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ায় যুব মোর্চার সভাপতির দায়িত্ব থেকে ইন্দ্রনীল খাঁকে সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন অমিত সামন্ত। এর আগে যুব মোর্চায় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন অমিত। বিধানসভা নির্বাচনে আমতা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়কও হয়েছেন তিনি। এবার যুব সংগঠনের শীর্ষ দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দিল রাজ্য বিজেপি।
মন্ত্রীদের সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি মেনে মন্ত্রী হওয়া একাধিক নেতাকে রাজ্য সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, দীপক বর্মন এবং শঙ্কর ঘোষ—মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁদের সাংগঠনিক পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরানো হয়েছে বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কেও। শর্বরীকে সরানোর কারণ নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হলেও, এ বিষয়ে বিজেপির তরফে প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি। সাত সাংগঠনিক জেলায় নতুন সভাপতি, রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি সাতটি সাংগঠনিক জেলাতেও সভাপতি পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—
বনগাঁ — নৃপেন বিশ্বাস
বারাসত — দীপঙ্কর চক্রবর্তী
শ্রীরামপুর — শশী সিংহ
আরামবাগ — প্রশান্ত দিগার
মেদিনীপুর — সৌমেন তিওয়ারি
বর্ধমান — আশিস পাল
কাটোয়া — মানিক রায়
এছাড়াও রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে অমিতাভ চক্রবর্তীর পুনর্নিযুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজ্য বিজেপির একাধিক স্তরে পরপর এই পরিবর্তনের ফলে সংগঠনের দায়িত্ব বণ্টনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সর্বভারতীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ সফরের আগে এই রদবদলকে ঘিরে রাজ্য বিজেপির অন্দরে চর্চাও শুরু হয়েছে।
