Kolkata:পালাবদলের পুজোয় নতুন চমক ! দেবীপক্ষের সূচনায় রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, আরও কি কি চমক থাকছে ?

রাতদিন ওয়েব ডেস্ক : পূজোর আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি । বাঙালি ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে শপিং , এবং অবশ্যই পূজোর প্ল্যানিং। দুর্গাপুজো মানেই বাংলার প্রতিটি ঘরে তাদের মেয়ে ” মা দুর্গার” আগমন। তবে দুর্গাপুজো নিয়ে বিশেষ করে ২০২৬ এ ছবিটা একটু ভিন্ন নজরে আসে।
বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন , আর নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সব কিছুর সাথে সাথে দুর্গাপুজোর ছবিটাও একটু বদল ঘটেছে । পালাবদলের পুজোয় কার্নিভালে “না” করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও , মাতৃপক্ষ থেকেই মায়ের আরাধনা করতে হবে এমনটাই জানানো হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। তবে কলকাতার দুর্গাপুজোকে এবার গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড -এ নথিভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগী নতুন সরকার। তাই পূজোর আগেই অর্থাৎ মহালয়া থেকেই থাকছে নতুন নতুন চমক ।জেনে নিন বিস্তারিত,
দেবীপক্ষের সূচনায় অর্থাৎ মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে আয়োজন করা হবে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান, এছাড়াও গোটা পুজো জুড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে রাজ্যের পক্ষ থেকে। ইডেনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এছাড়াও আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ । গত শুক্রবার রাজ্যের তরফে ইডেনের ক্লাবহাউসে একটি বৈঠকের মাধ্যমে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে,পালাবদলের আগমনী সুরে নতুন সেতার জুড়তে চান সরকার। তাই মহালয়ার দিন ইডেনে যে অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে, তার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাশে আছে ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি।
বিগত শুক্রবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন,পর্যটন বিভাগের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব বরুণ কুমার রায়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের সচিব সৌমিত্র মোহন, মিউনিসিপাল কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ এবং সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস। তাছাড়াও কলকাতা পুলিশ, পর্যটন বিভাগ, তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ, পরিবহণ, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রকের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তারা যোগ দিয়েছিলেন।
সঞ্জয় দাস জানান, “আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যে, আমাদের বড় ম্যাচ আয়োজনের সামর্থ ও দক্ষতা রয়েছে। বড় ম্যাচে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক এবং সাংগঠনিক ব্যাপারগুলো ভাল ভাবেই সামলানো গিয়েছে। এরকম বড় অনুষ্ঠানে আমাদের তরফ থেকে সব রকম সহযোগিতা পাওয়া যাবে। আশা করা যায় খুব ভাল অনুষ্ঠান হবে।” রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী , মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলবে। সিএবি-র বক্তব্য , মহালয়ার এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজো এবং পশ্চিমবঙ্গের একদিকে যেমন বিশ্বব্যপী প্রচার হবে, তেমনই নতুন মাত্রা পাবে ইডেন গার্ডেন।
সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী , মহালয়ার দিন দেড় ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন ইডেনে। হুডখোলা গাড়িতে দু’জনকে ঘোরানো হবে গোটা মাঠে। অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করতে ৫০০০ ঢাকি একসঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এত ঢাকির সমাবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের নাম ‘গিনেস বুক অফ রেকর্ডস’-এ তোলার চেষ্টা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এছাড়াও ওইদিন লগ্নজিতা চক্রবর্তী, কৌশিকী চক্রবর্তী এবং বাংলা ব্যান্ড দোহার এর উপস্থিতিতে বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান আয়োজিত হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে । সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেন শান্তনু মৈত্র।সবমিলিয়ে এবারের দুর্গাপুজো আগের তুলনায় আলাদা হতে চলেছে ।
