WEATHER : মহারাষ্ট্রে ভয়াবহ খরা! ৩৫৮ তহসিলের ২৬৫টিতেই খরা ঘোষণা, চরম বিপাকে কৃষকরা

রাতদিন ওয়েব ডেস্ক: দেশের একাংশ যখন প্রবল বৃষ্টি ও জলবন্দি পরিস্থিতিতে বিপর্যস্ত, তখন মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় দেখা দিয়েছে উল্টো ছবি। দীর্ঘ বর্ষার মরসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টির দেখা মেলেনি রাজ্যের বহু এলাকায়। অমরাবতী, সোলাপুর, লাতুর-সহ অন্তত ছয়টি জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি পৌঁছেছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজ্যের ৩৫৮টি তহসিলের মধ্যে ২৬৫টিতে খরা ঘোষণা করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ তহসিল এখন খরা পরিস্থিতির আওতায় চলে এল। বৃষ্টির অভাবে ইতিমধ্যেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষিকাজ। বহু এলাকায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে আর্থিক চাপ বেড়েছে কৃষকদের উপর।
মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের পরই বড় ঘোষণা :
খরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে কয়েক দিন আগেই রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। সেখান থেকে ফিরে তিনি জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত সরকারি ভাবে খরা ঘোষণা করা হবে। সেই মতো শনিবার ২৬৫টি তহসিলে খরা পরিস্থিতির কথা ঘোষণা করে রাজ্য সরকার।
খরা ঘোষণার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে ঋণ সংক্রান্ত সহায়তাও রয়েছে। তবে সরাসরি কত পরিমাণ আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে, তা এখনই জানানো হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব হাতে আসার পর সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কোন ভিত্তিতে খরা ঘোষণা?
রাজ্য কৃষি কমিশনারের রিপোর্টের ভিত্তিতেই খরা পরিস্থিতি চিহ্নিত করা হয়েছে বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। গত জুন মাস থেকে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি এবং দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রশাসনিক মাপকাঠি অনুযায়ী, কোনও এলাকায় টানা ২১ দিন উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলে সেটিকে খরা পরিস্থিতির আওতায় বিবেচনা করা হয়। মহারাষ্ট্রের চিহ্নিত ২৬৫টি তহসিল সেই মাপকাঠির আওতায় পড়েছে।
কীভাবে মাপা হবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি?
খরা ঘোষণার পর এবার মাঠে নেমে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরি করবে জেলা প্রশাসন। কোন এলাকায় কতটা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবেন আধিকারিকরা। প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সরেজমিনে কৃষিজমি পরিদর্শন করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ছবি তোলার পাশাপাশি সেই ছবির সঙ্গে জিপিএস লোকেশনও নথিভুক্ত করতে হবে। পরে সেই সমস্ত তথ্য ও রিপোর্ট কৃষি দফতরের কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে।
সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই চাষিদের জন্য আর্থিক সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ, খরা ঘোষণা হলেও প্রত্যেক কৃষক কতটা সাহায্য পাবেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির সরকারি মূল্যায়নের উপর।
বর্ষার মরসুমে রাজ্যের একদিকে অতিবৃষ্টি, অন্যদিকে দীর্ঘ বৃষ্টির ঘাটতি—দুই বিপরীত আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতিই এবার মহারাষ্ট্রের কৃষি ব্যবস্থার উপর বড় চাপ তৈরি করেছে। আবহবিদদের একাংশ এই বৃষ্টির ঘাটতির পিছনে এল নিনোর প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন।
