একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে সচিনের রেকর্ড ভেঙে , মানসিকতার ভুয়সী প্রশংসায় কোহলি

রাতদিন ওয়েব ডেস্ক : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে শতরান করে নিজের চেনা পরিচিত ছন্দে রবিবার দেখা গেলো বিরাট কোহলিকে। তিনি ম্যাচে সাফল্যের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়েছেন নিজের মানসিকতাকেই । তার মন্তব্য , তিনি যা পেয়েছেন তার জন্য তিনি অত্যন্ত আপ্লুত।দেশের হয়ে খেলতে পারায় তিনি গর্বিত। তেন্ডুলকরের রেকর্ড ভেঙ্গে গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩৯ রান করে ভারতকে জয় এনে দিয়েছেন। এছাড়াও গতকাল অধিনায়ক গিলও শতরান করেন।
মিডিয়া বিরাটকে জিজ্ঞেস করেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে তিনি কি ধরনের মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামেন ? কোহলি জানান , “আমি স্রেফ কৃতজ্ঞ এবং খুশি। আমাদের শুধু পিছন ফিরে দেখতে হবে যে কোথা থেকে এসেছি। যে খ্যাতি আমরা পাই এবং সমর্থকেরা আমাদের যে ভাবে ভালবাসেন তাতে আমরা আমাদের উত্থানের কথাটাই ভুলে যাই। কোথা থেকে এসেছেন সেটা ভোলা খুব সহজ। কিন্তু ছোটবেলা থেকে উঠে আসা পথটার দিকে তাকালে শ্রদ্ধা ও সম্মান আসবেই। এমনও হতে পারত যে আমি হয়তো এখানে না-ই দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম। হয়তো ভারতের হয়ে কোনও দিন খেলতেই পারতাম না। কিন্তু দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এত অবিশ্বাস্য মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারছি। এত মানুষের সামনে দলের হয়ে নিজের অবদান রাখতে পারছি। এই স্বপ্নটাই তো দেখেছিলাম। হৃদয় থেকে কৃতজ্ঞতা জানানো ছাড়া আর কিছু বলার নেই। মাথা নিচু করে নিজের কাজ করা ছাড়া, নিজে হেসে অন্যকে হাসানোর সুযোগ করে দেওয়া ছাড়া আর কিছু বলার নেই।”
বর্তমানে অবসরের পর , দেশের হয়ে কেবলমাত্র ৫০ ওভারের ক্রিকেটই খেলেন বিরাট।আগের ১১টি ওডিআই ম্যাচে চারশত রান হয়ে গিয়েছে তার । এছাড়াও আছে পাঁচটি অর্ধশতরান।সাংবাদিক প্রশ্ন করেন কী ভাবে এতটা ধারাবাহিক থাকতে পারেন? কোহলি প্রত্যুত্তরে বলে , “সবার আগে খেলাটাকে বোঝার চেষ্টা করি। নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করি। কারণ আসল খেলাটা হয় মনে। আমি কখনওই খুব বেশি প্র্যাকটিস করি না। তিন ফরম্যাটে খেলার সময় থেকেই এটা বজায় রেখেছি। মানসিক ভাবে সুস্থ থাকাই আমার কাছে আসল ব্যাপার । বর্তমানে বাঁচতে ভালবাসি এবং মাঠে নেমে নির্দিষ্ট ভাবে নিজের কাজটা করতে পছন্দ করি। জীবনের এই পর্যায়ে নিজের খেলার ধরনকে একটা বা দুটো গিয়ার এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। এই পর্যায়ে নতুন কোনও আঙ্গিকে নিজেকে পেশ করতে পারলে ভালই লাগে। আইপিএলে খেলি বা ভারতের হয়ে, এতে দলেরই উপকার হয়। অনেক মুক্তমনে খেলতে পারি। শরীরকে ঠিক রাখি। আগে থেকে পরিকল্পনা করে নিই কী ভাবে খেলব। মাঠে নেমে সেটাই কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।”
এছাড়াও তিনি জানান ,“শেষ ১৫ ওভার যাতে এই বাউন্ডারি থেকে ওই বাউন্ডারি পর্যন্ত দৌড়তে পারি সেই চেষ্টা করি। বৃত্তের মধ্যে ফিল্ডিং করি। যতগুলো বিষয় ঠিক রাখার দরকার, সেগুলো ঠিক রাখি। এখনও এই ফরম্যাটে কিছুটা খেলা বাকি রয়েছে আমার। তাই প্রতিটা দিন উপভোগ করতে চাই। সুযোগ পেলে চাপে থাকা বদলে সেটা ভাল করে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। নিজেকে নিজের মতো করে তুলে ধরি। নিজেকেই নিজে প্রতিজ্ঞা করেছি যে, ইতিবাচক ভাবে ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব, তবে বেপরোয়া হব না। পেশাদার এবং অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসাবে বেপরোয়া শট না খেলে দলকে জেতানোই আমার কাজ।”
গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে, সচিন তেন্ডুলকরের থেকে ৭২টি ম্যাচ কম খেলে ওডিআই ক্রিকেটে ১৫ হাজার রান পার করেছেন বিরাট কোহলি। এই বিষয়ে তিনি বলেন, “কখনওই মাইলফলকের কথা ভেবে খেলি না। পরিস্থিতি বুঝে দলকে সাহায্য করাই আমার দায়িত্ব। তাতে কিছু কিছু জিনিস পাওয়া যায়। এত দিন ধরে খেলতে পারার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। মাথা নিচু করে কঠোর পরিশ্রম করি এবং যা অর্জন করেছি তার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই। পরিস্থিতি ও সুযোগ কাজে লাগিয়েই আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি। অনেকেই এই জায়গায় আসতে চায়। ভাগ্যবানেরাই পৌঁছতে পারে। তাই মাটির কাছাকাছি থাকা খুব দরকার।”
