আপ্তসহায়কের খুনে ভাইপো গ্যাংয়ের উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রীর

রাতদিন ওয়েব ডেস্ক : উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মঙ্গলবার নিহত চন্দ্রনাথের মা হাসিরানী রথ মনোনয়ন জমা করেন । এদিন তিনি হলদিয়া মহকুমাশাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দেন, সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্য ও জেলার নেতৃত্বরা। হলদিয়ায় মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চন্দ্রনাথের খুনে”ভাইপো গ্যাং ” কে নিশানা করলেন। এই আগেও এই খুনের প্রসঙ্গে বহুবার কথা বলেছেন তিনি। মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন ,চন্দ্রনাথকে খুন করতে দু’কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।
তিনি বলেন এই টাকা সুপারি কিলারদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ‘ভাইপো গ্যাং’! উল্লেখ্য গত ৪মে ,২০২৬ ঘোষিত হয় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হয়। ঠিক তার দুদিন পর অর্থাৎ ৬ মে মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয় মুখ্যমন্ত্রীর তৎকালীন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। গাড়িতে চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন চন্দ্রনাথ। চালকও জখম হন গুলিতে। বাইকে করে এসে তাঁদের গুলি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ চন্দ্রনাথকে কিছুক্ষণের মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, এই খুনের নেপথ্যে আন্তঃরাজ্য বিষয় জড়িয়ে থাকায় তদন্তভার সিবিআই-কে দেওয়া হয়েছে। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘চন্দ্রনাথকে খুন করতে শুটার এবং তাঁদের যাঁরা সুপারি দিয়েছিলেন তেমন সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার যেটুকু জানা আছে, ওকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য দু’কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এই টাকা সরবরাহের কাজ ভাইপো গ্যাং করেছে।’’
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, চন্দ্রনাথকে খুন করতে যাঁরা সুপারি কিলারদের টাকা পৌঁছে দিয়েছিলেন , তাঁরা ডায়মন্ড হারবারের। তাঁদের কল রেকর্ড তিনি শুনেছেন বলেও দাবি করেন । মুখ্যমন্ত্রী বলেন , ‘‘এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারব না। বাকিটা সিবিআই তদন্ত করছে। সাত জনকে গ্রেফতার করেছে। চার্জশিট দিয়েছে। আমার বিশ্বাস তাঁদের ফাঁসি হবে।’’ যদিও সিবিআই যে সাত জনকে গ্রেফতার করেছে, তাঁদের মধ্যে দু’জন ছাড়া বাকিরা ভিন্রাজ্যের পেশাদার অপরাধী। চন্দ্রনাথ খুনের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে সাগর এবং সাহেব সোনকরকে , যারা চন্দ্রনাথের পরিচিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সিবিআইয়ের এক কর্তা জানিয়েছিলেন, শুটার আনা থেকে ‘রসদ’ সরবরাহ, রেকি করতে সাহায্য করা—, চন্দ্রনাথ খুনের যাবতীয় পরিকল্পনায় এঁরা ছিলেন। ঘটনার পরই তৃণমূলের তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়, তাদের তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, ‘‘আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছি, যাতে যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যায়। ” মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর এই বিবৃতির পর আবারও তৃণমূলের পক্ষ থেকে একই দাবি রাখা হয়। তবে এখনও চন্দ্রনাথ খুনের ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ হয় নি।
