LM 10 : ফুটবলের ইতিহাসে সমাপ্ত আরও একটি অধ্যায় ; বিদায়ী ম্যাচে আবেগপ্রবণ আর্জেন্টিনার লিও

রাতদিন ওয়েব ডেস্ক : গত মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার তরফে লিয়োনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচ ছিল। বুয়েনোস আইরেসের এস্তানিয়ো মনুমেন্টালের প্রতিটি মানুষ গতকাল রাতে এক ঐতিহাসিক ম্যাচের প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছিলেন । ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলের শেষ অর্থাৎ বিদায়ী ম্যাচ ছিল লক্ষ কোটি দর্শকের চোখে জল এনে দেওয়ার মতো । কেবল মেসিভক্ত নয় , মেসি জাদু দর্শনকারী প্রতিটি মানুষ অন্তরের ভালোবাসা , বিভিন্ন আলোর সমাবেশ সমস্ত কিছু মিলিয়ে — মেসির বিদায়ী ম্যাচের রাত চিরস্মরণীয় করে স্মৃতির পাতায় তুলে রাখলেন সমর্থকেরা। গতকালের ম্যাচে মেসি একটি গোল দেয় এবং দু’টি অ্যাসিস্ট । আর্জেন্টিনার জার্সিতে জীবনের শেষ ম্যাচ হলেও আর্জেন্টিনার কাছে মেসি ঠিক কী ? সেটা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
জার্সি ১০ এর বিদায়ী ম্যাচের সাক্ষী থাকতে ৮৫ হাজার দর্শক ভিড় করেছিল গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে । উপস্থিত ছিলেন অ্যাঙ্খেল দি মারিয়া, নিকোলাস ওটামেন্ডিরা। এছাড়াও প্রাক্তন ফরাসি ফুটবলার ডেভিড ত্রেজেগুয়েকেও । খেলা শুরু হওয়ার আগে সম্মানজ্ঞাপন অনুষ্ঠান হয় । ১০ নম্বর লেখা আর্জেন্টিনার একটি বিরাট জার্সি টাঙানো হয় স্টেডিয়ামে। যেখানে ফুটে উঠেছিল , ‘ধন্যবাদ’। দর্শকরা উত্তেজনার প্রহর গুনতে গুনতে মাঠে প্রবেশ করেন লিও মেসি। সাথে সাথে গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে আতশবাজির ঝলক শুরু হয়। লিওর তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেয়ো, সিরো, স্ত্রী আন্তোনেয়া, মা সেলিয়া উপস্থিত ছিলেন স্টেডিয়ামে। আর্জেন্টিনার জাতীয় সঙ্গীতের সময় মেসি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ক্যামেরায় তাকে কাদতে দেখা যায় । এছাড়াও তার পরিবারের উপস্থিত সদস্য তথা স্ত্রী, মায়ের চোখ ও ভিজে যায় জলে । কোচ লিয়োনেল স্কালোনি, ওটামেন্ডি, এঞ্জো ফের্নান্দেজ়রাও আবেগতাড়িত হয়।
টসের আগে প্রতিপক্ষ বেনিনের পক্ষ থেকে একটি স্মারক দেওয়া হয় মেসিকে। অ্যামাজ়ন জঙ্গলের আদলে তৈরি ভাস্কর্য ও একটি চিঠি। শুরু হয় ম্যাচ। মেসির পায়ে প্রথম বার বল যেতেই স্টেডিয়ামে রব ওঠে। বিদায়ী ম্যাচে কোনপ্রকার জাঁকজমকভাবে নজর কাড়ার চেষ্টা করেননি মেসি । স্বচ্ছন্দে মাঠে ঘুরে বেড়িয়েছেন, পাস নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
আর্জেন্টিনা ও বেনিন দুই পক্ষই দারুণ খেলছিল । যদিও প্রথমার্ধে কোনও গোল হয়নি। তবে বিরতির পরেই গোল করে আর্জেন্টিনা। মেসির পাস থেকে দলকে এগিয়ে দেন ওটামেন্ডি, যে মেসির মতোই বিশ্বকাপের পর অবসর নিয়েছেন। তাঁরও শেষ ম্যাচ ছিল এটা । দ্বিতীয় গোলের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি । ডান দিকে বল পেয়েছিলেন নিকো পাজ়। ভেতরে ঢুকে বাঁকানো শটে গোল করেন। এ রকম গোল দেশের জার্সিতে বহু বার করেছেন মেসি নিজেই। প্রধান মুহূর্তটি আসে ৬৯ মিনিটে। বক্সের বাইরে ফাউল করেন বেনিনের অগাস্টিন এনদিয়ায়ে । পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। সহ ফুটবলাররা ঘিরে ধরেন মেসিকে তাঁকে রক্ষা করার মতো করে। মেসি বল মাটিতে বসান। মেসির পেনাল্টি নষ্ট করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। শেষ ম্যাচে মেসি অবশ্য তিনি কোনপ্রকার ভুল করেননি। জোরালো শট কোনাকুনি আছড়ে পড়ে। গোটা স্টেডিয়াম চেঁচাতে থাকে। মেসিকে ঘিরে লাফাতে থাকেন টিমের সদস্যরা। মেসির আরও একটি শট বিপক্ষ গোলকিপারের গায়ে লেগে পোস্টে লাগে। তবে অন্তিম মুহূর্ত কল্পনার মতো হয় না। মেসির শট বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। এভাবেই ২১ বছরের এক অধ্যায়ে ইতি টানেন এল এম ১০ ।
