ROYAL BENGAL TIGER : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! বিহারের অতিথি রয়েল বেঙ্গল বাঘিনী উত্তরবঙ্গের বক্সার জঙ্গলে মুক্তি পেল

রাতদিন ওয়েব ডেস্ক : গত শুক্রবার উত্তরবঙ্গের বক্সায় রাজ্যের প্রথম ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কর্মসূচির শুভ সূচনা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্রপ্রকল্প থেকে আনা তিন বছরের রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনিকে উত্তরবঙ্গের বক্সার জঙ্গলের প্রাকৃতিক পরিবেশের ঘেরাটোপে মুক্তি দেওয়া হয়। গতকালের এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এছাড়াও কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। বিহারের বাল্মীকি সংরক্ষিত জঙ্গল থেকে সড়কপথে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর এরপর বিশেষ বিমানে আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা থেকে বক্সায় পৌঁছোয় রয়েল বেঙ্গল বাঘিনি। দীর্ঘ যাত্রার ফলে শারীরিক কষ্টের জন্য বক্সায় পৌঁছোনোর পর প্রথম একটা দিন বিশ্রামে কাটায় বঙ্গের নতুন অতিথি। দীর্ঘদিন পর বক্সার জঙ্গলে স্থায়ী বাসস্থান মিলল বাঘের।
বন দফতর সূত্রে খবর , ডুয়ার্সের গরম ও আর্দ্র পরিবেশে কারণে ঘেরাটোপের ভেতরের জলাশয়ে নেমে তাকে স্নান করতে দেখা গেছে। নতুন পরিবেশের সঙ্গে সে যে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছে, গোপন ক্যামেরায় উঠে আসে বাঘিনীর সাবলীল চলাফেরা দেখেই তার স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞেরা। ২০১৮ এরপর ২০২১ সালের ডিসেম্বর, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বক্সার জঙ্গলে বসানো ট্র্যাপ ক্যামেরায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ধরা পড়ে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাঘগুলোর কোনোটাই স্থায়ী বাঘ না , বাঘগুলি ভুটান অথবা অসমের মানস জাতীয় উদ্যান থেকে সীমানা পার হয়ে বক্সার জঙ্গলে ঘোরাঘুরি করত। সেই কারণে বক্সায় এই নতুন সদস্য বাঘিনীর আগমন উল্লেখযোগ্য ।
উত্তরবঙ্গের বক্সায় বাঘের সংখ্যা ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বন দফতর। জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় সাধারণভাবে একটি পুরুষ এবং দু’টি বাঘিনি আনার কথা পরিকল্পনা করা হয়েছে । আগামী দু’বছরের মধ্যে বাইরের রাজ্য থেকে অন্তত ছ’টি বাঘ নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। এই কর্মসূচি সফল হলে বক্সার বাস্তুতন্ত্রের সাথে উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন বিপ্লব ঘটবে , এমনটাই জানিয়েছে প্রশাসন। বঙ্গের মানুষের জন্য নতুন ভ্রমণের স্থান উন্মুক্ত হবে ।
