গুজরাতের ক্যাপ্টেন স্মিতের দুঃসাহসিক পদক্ষেপ ; প্রাণ বাঁচলো বিমানে থাকা ১৮০ জনের ! কেনো পাইলটের ওপর হামলার ?

রাতদিন ওয়েব ডেস্ক : আকাশপথে ভারতের পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিতের ওপর হামলা ওমানি পাইলটের । গত বুধবার ফ্লাই দুবাইয়ের এফজ়েড১০৭৩ বিমানটিতে ১৮০ জন যাত্রী ছিল , বিমানটি চালাচ্ছিলেন স্মিত মচ্ছর। ২০২২ সাল থেকে গুজরাতের স্মিত দুবাইয়ের বিমান সংস্থার অংশ। তার আগে তিনি ছিলেন ভারতীয় বিমান সংস্থায়।
স্মিতের অভিযোগ, মাঝ-আকাশে ককপিটের মধ্যেই তার সহকারী পাইলট তাঁর উপর হামলা চালায়। মচ্ছরকে বেশ কয়েকবার কোপানো হয় ছুরি দিয়ে। বিমানে উপস্থিত অন্যান্য যাত্রী ও এয়ারহোস্ট্রেসরা সকলে হামলাকারী ওমান প্রবাসী পাইলটকে বাধা দেন এবং ক্যাপ্টেন স্মিতকে কোনরকম বাঁচাতে সক্ষম হন । ১৮০ জন যাত্রী-সহ দুবাই এর বিমানটিকে সৌদি আরব সংলগ্ন তাবুক বিমানবন্দরে তড়িঘড়ি অবতরণ করানো হয়। হামলাকারী সহ পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতের স্মিত বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সূত্রের খবর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই থেকে ফ্লাইদুবাই সংস্থার যে বিমানটি ইজ়রায়েলের তেল আভিভে যাচ্ছিল, তার ক্যাপ্টেন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক স্মিত মচ্ছর । ইজ়রায়েলের এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে এটাই জানানো হয়।সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী , আক্রান্ত ওই পাইলটের নাম স্মিত মচ্ছর। ২০২২ সাল থেকে তিনি দুবাইয়ের বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন । পূর্বে তিনি ছিলেন ভারতীয় সংস্থা স্পাইসজেটে।
প্রত্যক্ষদর্শী বিমান যাত্রী ও বিমান সহকারীদের দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, বিমানটি ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা হয়েছিল। ককপিটে গোলমালের খবর পেয়েই সকলে আতঙ্কিত হয়ে প়ড়েন। ভাগ্যবশত যাত্রীদের আসনে কয়েক জন পাইলট ছিলেন। তাঁরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিরস্ত্র করেন ও বিমানটিকে কোনোরকমে নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করে । ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের সেই বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে গিয়েছিল। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ককপিট। এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন , বিমান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। যে কোনও মুহূর্তে সেটা হাইজ্যাক হয়ে পড়ে বলে তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত স্মিত এই দুর্ঘটনার হাত থেকে তাদের রক্ষা করে ।
ঘটনাটি ঘটার পর মৌন ছিলেন বিমান সংস্থা যদিও পরে তারা জানায় , ‘‘বিমানে সংস্থার কর্তব্যরত আধিকারিকেরাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানটিকে ঘুরিয়ে তাঁরা তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করান। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্তের আওতায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে বলছি, অনুমান বা জল্পনা থেকে বিরত থাকুন।’’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্যাপ্টেন স্মিত কে হিরো বলে উল্লেখ করেন এবং তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন, তাদের পাশে থাকার বার্তা দেন। এছাড়াও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।
