S JAYSANKAR : এল নিনোর প্রভাবে কি তাহলে দেশজুড়ে খাদ্য সংকট ? কি সতর্কবার্তা দিলেন জয়শঙ্কর ?

রাতদিন ওয়েব ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতাতে তিনি বহুবার ভারতবাসীকে জ্বালানি ও সোনা কেনার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। দরকার না পড়লে সোনা না কেনার পরামর্শ দিয়েছিলেন মোদি । কিন্তু এবার সরাসরি আগামীতে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট ও খাদ্যাভাবের সতর্কবার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
আমেরিকার নিউইয়ার্কে এশিয়া সোসাইটি-র সভায় জনগণকে সতর্ক করে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন “জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। বাজারে জ্বালানির সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত অবস্থায় রয়েছে। তেল সরবরাহের নিরাপত্তা ও অপরটি হল তেল সরবরাহ নিয়ে রাজনীতি। সার সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। সম্ভবত আগামী মাসগুলোতে কোনো বড় ধরনের খাদ্য সংকট দেখা দিতে চলেছে।”
ভারতের বিদেশ সচিব জয়শঙ্কর বলেন এল নিনোর প্রভাবও পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে । এল নিনোর প্রভাবে কোনো কোনো জায়গায় অতিরিক্ত বৃষ্টি হবে আবার কোথাও বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেবে। তীব্র গরম ফসলের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশই যুদ্ধ যতই তীব্র আকার ধারণ করবে, ততই তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে বাড়বে কৃষি যন্ত্র চালানোর খরচ, সার উৎপাদনের খরচ এবং খাদ্য পরিবহণের খরচ।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এশিয়া সোসাইটির আলোচনায় এস জয়শঙ্কর মন্তব্য করেন , বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্বের বহু উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও সারের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। ভবিষ্যতে এর প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বে। কৃষ্ণ সাগর অঞ্চল দিয়ে খাদ্যশস্য পরিবহণে সমস্যা তৈরি হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গম, ভুট্টা ও অন্যান্য শস্যের সরবরাহে সংকট তৈরি হতে পারে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে গেলে পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা প্রকট । বিশ্বের যে সমস্ত দেশ খাদ্য আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে যুদ্ধ যত তীব্র হবে, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের সরবরাহ কমবে । ভারত সচিব জয়শঙ্করের দাবি , এর প্রভাব সবথেকে বেশি পড়তে পারে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এ অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।
